দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভাবুন তো, এমন এক শহর যেখানে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বিড়াল দেখলে আদর করে ডাকতে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, প্রিয় পোষা বিড়ালটিকেও সেখানে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও পৃথিবীর উত্তরের প্রান্তের এমনই এক জনপদে বিড়াল নিষিদ্ধ।
নরওয়ের দ্বীপপুঞ্জ স্বালবার্ডে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরের বসতি। কঠিন শীত, বরফ আর অনন্য প্রকৃতির এই অঞ্চলে মানুষের জীবনযাপনের নিয়মও অন্য অনেক জায়গার তুলনায় আলাদা। সেই নিয়মেরই একটি হলো, এখানে বিড়াল প্রবেশ করানো নিষিদ্ধ।
তবে বিড়ালের প্রতি কোনো বিরূপতা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। মূল কারণ স্বালবার্ডের ভঙ্গুর প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা। বিশেষ করে এখানকার পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বালবার্ড২০০৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ভঙ্গুর উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ রক্ষায়’ দ্বীপপুঞ্জে বিড়াল নিষিদ্ধ। আর্কটিকের চরম পরিবেশে এমনিতেই টিকে থাকা কঠিন। তার ওপর লাখ লাখ সামুদ্রিক পাখি অল্প সময়ের আর্কটিক গ্রীষ্মে স্বালবার্ডকে প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এমন পরিবেশে স্থলভাগের নতুন শিকারি হিসেবে বিড়ালের উপস্থিতি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আর নিষেধাজ্ঞাটি শুধু বিড়ালের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বালবার্ডে প্রায় সব ধরনের জীবিত স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি নিয়ে যাওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। এর পেছনে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে, বিশেষ করে জলাতঙ্কের মতো রোগ থেকে স্বালবার্ডকে মুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বালবার্ডের গভর্নরের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নরওয়ে থেকে খাঁচায় রাখা পাখি, খরগোশ ও ছোট ইঁদুর এবং ফিনল্যান্ড থেকে খাঁচায় রাখা পাখি ছাড়া জীবিত স্তন্যপায়ী ও পাখি স্বালবার্ডে নেওয়া যায় না। তবে নরওয়ের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ কুকুর আমদানির অনুমতি দিতে পারে।
এর পেছনে রয়েছে স্বালবার্ডের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দ্বীপপুঞ্জটির স্থানীয় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী মাত্র তিন প্রজাতির। এগুলো হলো মেরু ভালুক, আর্কটিক শিয়াল ও স্বালবার্ডের বল্গাহরিণ। হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা এই পরিবেশে নতুন কোনো প্রজাতি যুক্ত হলে তার প্রভাব কী হবে, তা সহজে অনুমান করা যায় না।
বিশেষ করে ছোট শিকারির জায়গাটি সেখানে আগে থেকেই দখল করে আছে আর্কটিক শিয়াল। কঠিন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এই প্রাণী স্বালবার্ডের বাস্তুতন্ত্রেরই স্বাভাবিক অংশ। সেখানে নতুন কোনো শিকারি প্রাণী ঢুকলে খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রাণীজগতের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
শুধু প্রাণী নয়, স্বালবার্ডের উদ্ভিদজগতও অত্যন্ত নাজুক। আর্কটিকের কঠিন আবহাওয়ায় সেখানকার উদ্ভিদ খুব ধীরে বেড়ে ওঠে। ফলে ছোট কোনো ক্ষতি সারিয়ে উঠতেও দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। নতুন কোনো প্রজাতির আগমন সেই পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং তার প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকার আশঙ্কা থাকে।
তাই বিড়াল নিষিদ্ধের এই অদ্ভুত নিয়ম আসলে বিড়ালকে ঘিরে নয়। পৃথিবীর উত্তরের এই বিচ্ছিন্ন জনপদের ভঙ্গুর প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রকে অক্ষুণ্ন রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
/অ